| বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদি হত্যার বিচারে আজ সারা দেশে বিক্ষোভ ও দোয়া কর্মসূচি | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-12-2025 ইং
  • 4382748 বার পঠিত
ওসমান হাদি হত্যার বিচারে আজ সারা দেশে বিক্ষোভ ও দোয়া কর্মসূচি | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: ওসমান হাদি

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও দোয়া কর্মসূচির ডাক

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের উদীয়মান নেতা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশ। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও দোয়া-মোনাজাতের ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

কর্মসূচি ও ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষণা

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চ এবং শহীদ ওসমান হাদির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানী এবং ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার রূপকার ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। আজ জুমার পর সারা দেশে একযোগে তার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া এবং খুনিদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক কামাল হোসেন সম্প্রতি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: রাজপথের রক্ত ও আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াই

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যখন বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলন শুরু হয়, তখন থেকেই এদেশের ছাত্র ও যুব সমাজ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে জীবন দেওয়া শহীদদের রক্তই ছিল মূলত শোষণের বিরুদ্ধে প্রথম বড় প্রতিরোধ।

১৯৭০-এর দশকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজপথ বারবার রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ডা. মিলন কিংবা নূর হোসেনের আত্মত্যাগ যেভাবে গণবিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল, ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ ও মুগ্ধদের রক্তে তেমনি এক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচিত হয়েছে। ২০২৫ সালে এসে ওসমান হাদির এই হত্যাকাণ্ডকে বিশ্লেষকরা ১৯৫০-এর দশকের সেই আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন। বারবার রাজনৈতিক নেতাদের ওপর এমন চোরাগোপ্তা হামলা প্রমাণ করে যে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী এখনও এদেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে সক্রিয়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিচারপ্রার্থনা

ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। এমন এক সময়ে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হলো যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং জামায়াত-এনসিপি জোটের সমীকরণ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ থেকে ২০২৫—এই দীর্ঘ ৭৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষ বারবার রাজপথে নেমেছে কেবল ন্যায়বিচারের আশায়। ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া যদি স্বচ্ছ ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়, তবে তা ২০২৫ সালের বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।


সূত্র: ১. ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. ডিবি পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট ও রিকশাচালক কামাল হোসেনের জবানবন্দি। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বিবর্তন (১৯৫০-২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency